সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ইতিহাস তথ্য ও তর্কর উপস্থাপনায়, প্রকাশিত হয়েছে ‘বঙ্গ ইতিহাস প্রবাহ’

সাম্প্রতিক লেখা

সূর্যের শীতকালীন অয়নান্ত বা উইন্টার সলস্টিস হল বছরের ক্ষুদ্রতম দিন – তিন দিন এক জায়গায় থেমে থাকার পর আবার সূর্যের উত্তরমুখী চলন শুরু হয়। সূর্যের উদয়স্থান একটু একটু করে উত্তর দিকে এগোতে থাকে, আর দিনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। সূর্যের এই উত্তরায়ণকে বিভিন্ন ভাবে উদযাপন করত মানুষ। বাঙালির ইতুপূজা উৎসব বা অতীতের বৈদিক গবাময়ন যজ্ঞ - মোটামুটি এই দিনটারই আশেপাশে। মকর সংক্রান্তি অতীতে এই দিনই হত- একুশে ডিসেম্বরের আশেপাশে। জার্মানদের ইউলটাইড বা রোমানদের সূর্যপূজা - সোল ইনভিক্টাস উৎসবও এই উত্তরায়ণের উদযাপন আর ক্রিসমাসের উৎস এই সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকেই। কিন্তু এইসব উৎসবের অনেক আগে, আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে, ব্যাবিলন-মিশরের জ্যোতির্বিদ্যা ইংল্যান্ডে তখনও পৌঁছায়নি - স্টোনহেঞ্জে নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ তৈরি করেছিল গ্রীষ্ম ও শীতকালীন অয়নান্ত মাপার ব্যবস্থা- কয়েকটি পাথরের স্তম্ভ ব্যবহার করে।
দ্বারকানাথ ঘোষ। তাঁর কোম্পানির নাম Dwarkin & Sons; নামের এইরকম ইঙ্গ-করণ হয়েছিল সম্ভবত যুগের সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে। ব্রিটিশের উচ্চারণে এটা হয়েছিল ‘ডোয়ারকিন’। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি নানারকম বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও বিপণনে সাফল্য পায়—এর মধ্যে অন্যতম হারমোনিয়াম। কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হারমোনিয়াম যন্ত্রের আধুনিক রূপটি আকার পেয়েছে দ্বারকানাথের হাতে। উনবিংশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে যে সময়টার কথা বলছি সেই সময় ভারতের ঘর-গেরস্থালিতে চেয়ারের ব্যবহার তেমন ছিল না। ফলে ইউরোপের হারমোনিয়াম এদেশে চলেনি। দাঁড় করানো সে যন্ত্র ছিল বেশ উঁচু এবং পা দিয়ে প্যাডেল করে সেটা থেকে আওয়াজ বের করতে হত।
উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণের হাত ধরে নানা ধরনের সভা সমিতি গড়ে উঠেছিল। এই ধারার অন্যতম ফসল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ। বাংলা ৮ শ্রাবণ, ১৩০০ বঙ্গাব্দ (ইং ২৩ জুলাই, ১৮৯৩) শোভাবাজারের রাজা বিনয়কৃষ্ণ দেবের বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘দি বেঙ্গল একাডেমি অফ লিটারেচার’। একাডেমির উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ও সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে অধ্যয়ন, সেই সম্পর্কে আলোচনা এবংআলোচনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা। সেই সময়ে একাডেমি একটি বাংলা অভিধান সংকলনেরও উদ্যোগ নিয়েছিল। কয়েক মাস পরে ১৭ বৈশাখ, ১৩০১ বঙ্গাব্দ (ইং ২৯ এপ্রিল, ১৮৯৪) থেকে এই সমিতিই পরিচিত হয় ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ নামে। রাজবাড়ির চৌহদ্দি এবং পরবর্তীকালে কর্নওয়ালিশ স্ট্রিট-এর (অধুনা বিধান সরণি) ভাড়া বাড়ি ছেড়ে ইং ৬ ডিসেম্বর, ১৯০৮ তারিখে পরিষৎ উঠে আসে তার নিজস্ব ভবন, ২৪৩/১ আপার সার্কুলার রোডে (অধুনা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড)।