সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ইতিহাস তথ্য ও তর্কর উপস্থাপনায়, প্রকাশিত হয়েছে ‘বঙ্গ ইতিহাস প্রবাহ’

সাম্প্রতিক লেখা

বাংলায় ঔপনিবেশিক আধুনিকতা ও কৃষি-অর্থনীতির প্রসারে ছোটোনাগপুর মালভূমি থেকে স্থানান্তরিত আরণ্যক শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চায় তাঁরা দীর্ঘকাল উপেক্ষিত রয়েছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর ব্লকের ভাগীরথী অববাহিকায়—বিশেষত সাটুই চৌরিগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধাওড়াপাড়া (প্রাচীন বুনোপাড়া) ও পোড়াডাঙ্গা গ্রামে বসবাসকারী তথাকথিত 'বুনো' (মূলত রাজোয়ার, রাজবংশী, সাঁওতাল ও অন্যান্য প্রান্তিক সমাজ) জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বিবর্তন, জীবনযাপন, পূজা-পার্বণ, সংস্কৃতি এবং বর্তমান সামাজিক রূপান্তর বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হল।
ইতিহাসের পরিহাস ছাড়া আর কী বা বলা যেতে পারে একে! না হলে, প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম হিসেবে ইতিহাস বইতে জন মার্শম্যান সম্পাদিত ‘সমাচার দর্পণ’-এর নাম জ্বলজ্বল করতে থাকে আর গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য হারিয়ে যান বিস্মৃতির অন্ধকারে৷ গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর প্রকাশিত পত্রিকার নামও সকলে ভুলে গেছেন। ইতিহাস বলে যে, ১৭৮০ সাধারণাব্দের ২৯ জানুয়ারি জেমস আগস্টাস হিকি (James Augustus Hicky) প্রকাশিত ‘দি বেঙ্গল গেজেট’-ই হচ্ছে ভারতবর্ষে প্রচলিত প্রথম সংবাদপত্র। তবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বহু পূর্বে মুঘল যুগে এক বিশেষ ধরনের হাতে লেখা সংবাদপত্র প্রচলিত ছিল। বাদশার দরবারের প্রত্যেক আমির-ওমরাহ, প্রাদেশিক শাসন-কর্তা এবং করদ-রাজার একজন করে বিশেষ কর্মচারী থাকতেন যারা নিয়মিতভাবে, অন্ততঃ প্রতিমাসে একবার করে, রাজধানীতে এবং অন্যান্য প্রদেশে যে-সকল আশ্চর্য অথবা বিশেষ বিশেষ ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেছে, তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিজেদের প্রভুর কাছে লিখে পাঠাতেন।
দীর্ঘকাল যাবৎ প্রচলিত ঐতিহ্য অনুসারে সংস্কৃত ভাষায় রচিত বর্ণাশ্রমধর্মের অনুসারী পুরাণ নামে অভিহিত গ্রন্থসমূহ একই সময়ে এবং একই ব্যক্তির দ্বারা সৃষ্ট। এই ঐতিহ্যের অনুসরণ করে মত্স্যপুরাণে বলা হয়েছে, সব শাস্ত্রের মধ্যে পুরাণই প্রথম ব্রহ্মা কর্তৃক স্মৃত হয়েছিল। তারপর তাঁর মুখ থেকে বেদ বিনির্গত হয়। কল্পের শুরুতে কেবল একটি মাত্র পুরাণ গ্রন্থ বিদ্যমান ছিল, সেই গ্রন্থ শত কোটি শ্লোকবিশিষ্ট ছিল।১ একই ঐতিহ্যেরই সম্প্রসারণ করে পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে, ব্রহ্মা ব্যাসের রূপ ধারণ করে প্রত্যেক দ্বাপর যুগে চার লক্ষ শ্লোকের পুরাণকে ১৮টি ভাগে ভাগ করেন।২ অবশ্য, এই ঐতিহ্য কখনওই সর্বজনীন ছিল না।
দিন কয়েক আগে এক সকাল অভ্যাসবশে চায়ের কাপ হাতে খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিলাম। চোখ আটকে গেল এক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের খবরে। ইতিহাসের খবর তো রোজ রোজ কাগজের শিরোনাম হয় না, স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল চেপে রাখতে পারলাম না। খবরটা এইরকম, থাইল্যান্ডের ফেতচাবুরি প্রদেশের দন-ইয়াই-থং প্রত্নক্ষেত্রের এক সমাধিস্থল থেকে পাওয়া গেছে হাজার দুই বছরের পুরোনো অক্ষত এক সোনার আংটি। আপাত অলংকরণবিহীন সেই আংটির উপরের দিকে ব্রাহ্মী হরফে ‘পুসরখিতস’ শব্দটি খোদাই করা রয়েছে। অর্থাৎ এই আংটির মালিকের নাম ছিল পুষ্যরক্ষিত! সংস্কৃত পুষ্যরক্ষিত শব্দটির অর্থ যিনি পুষ্যা নক্ষত্র দ্বারা সুরক্ষিত। নিশ্চিতভাবেই আংটির মালিক প্রাচীন ভারতীয় কোনো বণিক বা সমুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি সুদূর শ্যামদেশে ব্যবসায়িক কাজে গিয়ে থেকে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।