সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ইতিহাস তথ্য ও তর্কর উপস্থাপনায়, প্রকাশিত হয়েছে ‘বঙ্গ ইতিহাস প্রবাহ’

সাম্প্রতিক লেখা

বৌদ্ধধর্মে বিভাজন ও দলাদলির ইতিহাস বিস্তৃত ও জটিল। এর সূচনা,ধরতে গেলে বুদ্ধদেবের মৃত্যুর হয়েছে। তারপর কালের ও মানবচরিত্রের নিয়মে তা বহু বিস্তৃত হয়ে যায়। বুদ্ধদেবের মৃত্যুর ঠিক পরের দু-টি ঘটনা এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। চুল্লবগ্গের বিবরণ অনুযায়ী বুদ্ধের মহাশিষ্য মহাকশ্যপ বুদ্ধের মৃত্যস্থানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে কুশীনগরের দিকে যাত্রা করেছিলেন এবং ওই যাত্রাপথেই এক সাধুর কাছ থেকে বুদ্ধের মৃত্যু সংবাদ পান। এই সময় সুভদ্র নামে এক ভিক্ষুক হতাশা বা ক্রন্দনের বদলে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন। তিনি বলেন, এইবার যে যার নিজের খুশিমতো জীবন যাপন করতে পারবে। এটা করো না ওটা করো এই গুলি বলার আর কেউ রইল না।
ভা রতীয় সমাজে বর্ণপ্রথা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে—কখনও তা ইতিহাসের বিষয় হিসেবে, কখনও সমাজতত্ত্বের সমস্যা হিসেবে, আবার কখনও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে। তবু এই আলোচনাগুলির ভেতর একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর দিক প্রায়শই আড়ালে থেকে যায়; বর্ণপ্রথা বা জাত প্রথা কি কেবলমাত্র একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস, নাকি এটি এমন এক ক্ষমতার বিন্যাস যা মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে? এই প্রশ্ন থেকে আমাদের আজকের এই আলোচনার সূত্রপাত। এখানে বর্ণপ্রথাকে এমন এক শাসনব্যবস্থা হিসেবে ভাবা যেতে পারে, যা কেবল মানুষকে বিভক্ত করে না, বরং তাদের দেহ, অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক অস্তিত্বকে নির্দিষ্ট ছাঁচে নির্মাণ করে।
প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা কী খেতেন? তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কেমন ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব আমাদের হাঁড়ি-পাতিল, শস্যের অবশেষ বা প্রাচীন লিপির মাধ্যমে কিছু ধারণা দিতে পারে, কিন্তু স্থিতিশীল আইসোটোপ বিশ্লেষণ এক্ষেত্রে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রাচীন মানুষের হাড় ও দাঁতের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে তাদের খাদ্যাভ্যাস, স্থানান্তর এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করে। কিছুদিন আগে ফেসবুক ও হোয়াটস্যাপ গ্রুপে তেজস্ক্রিয় ও স্থিতিশীল আইসোটোপ এবং প্রাচীন ইতিহাসের গবেষণায় তাদের প্রয়োগ বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনার থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই এই প্রবন্ধের অবতারণা। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ অর্থাৎ ¹⁴C কেন ও কিভাবে ইতিহাসের গবেষণায় সাহায্য করে তা আমরা মোটামুটি জানি। এই প্রবন্ধে আমরা দেখব কীভাবে স্থিতিশীল আইসোটোপ গবেষণা প্রাচীন সভ্যতার জীবনযাত্রা, বিশেষত খাদ্যাভ্যাস পুনর্গঠনে অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা জার্মান সেনাবাহিনীর পোলিশ সীমান্ত অতিক্রম করবার মধ্যে দিয়ে সরকারিভাবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সূচনা হয়। ওই বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর—এই কয়েক মাসে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। • ২৩ আগস্ট বলশেভিক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং নাৎসি জার্মানি—মতাদর্শগত দুটি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী শক্তি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল। • পরের ঘটনাটি আরও চমকপ্রদ। ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের সীমান্ত বরাবর পোল্যান্ড আক্রমণ করে প্রায় অর্ধেক এলাকা দখল করে নেয়। • এবং মাসখানেক পরে ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করল।